কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০২:৪৬ PM
কন্টেন্ট: পাতা
জাতীয় মহিলা সংস্থা সম্পর্কে মতামতঃ
জাতীয় মহিলা সংস্থা ১৯৯১ সালে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মূলত মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত মহিলাদের পুনর্বাসনের জন্য সৃষ্ট নারী পুনর্বাসন বোর্ড (১৯৭২) ও পরবর্তীতে নারী পুনর্বাসন কল্যাণ ফাউন্ডেশন (১৯৭৪) থেকে উদ্ভূত। সংস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অব্যাহতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় মহিলা সংস্থার রাজস্ব কার্যক্রমের আওতাধীন প্রশিক্ষণ সমূহ-
১। সেলাই প্রশিক্ষণ ৪ মাস মেয়াদী
২। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম- সরকারিভাবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক সনদ প্রদান করা হয়-
ক) কম্পিউটার অফিস এ্যাপ্লিকেশন- ৬ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স। এবং
খ) গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং- ৬ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স।
এছাড়াও জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রম সাধারণত দুইটি প্রধান প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে-
তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প:
বেকার, অদক্ষ, দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় ও বিদেশি বাজারে প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ।
প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে লাখ লাখ নারীর কাছে আর্থিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।
তথ্য আপা প্রকল্প:
নারী জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ক্ষমতায়নের উদ্যোগ।
উদ্যেশ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের তথ্য, স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল সেবার অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।
নারী ক্ষমতায়ন: সংস্থা নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তথ্য ও ডিজিটাল অ্যাক্সেস: গ্রামীণ নারীরা এখন তথ্য, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সেবায় সহজে পৌঁছাতে পারছেন।
জাতীয় মহিলা সংস্থা বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয়। এর মূল শক্তি হলো এখানে অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিলিতভাবে সরবরাহ করা, যা নারীদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। সংস্থার কার্যক্রম সরকারের নারী নীতি ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি নারীর ক্ষমতায়নকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি নৈতিক ও কার্যকরী ঘরানার উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা যায়।
অনগ্রসর, অবহেলিত, বেকার মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় মহিলা সংস্থা দর্জ্জিবিজ্ঞান, এমব্রয়ডারী, ব্লক-বাটিক, চামড়াজাত শিল্প এবং খাদ্য প্রস্ত্তত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
২০০২-০৩ হতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারী/১৮ পর্যন্ত উপরে বর্ণিত কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতিঃ পরিশিষ্ট ‘ক ও ক (১)’।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণঃ
মানব সম্পদ উন্নয়ন, আত্ম-কর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থার ৬৪টি জেলা ও ৫০টি উপজেলা শাখার মাধ্যমে ০৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এগুলো হলো: ১) নগর ভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প (জুন ২০১৬-২০২০), ২) অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প (৩য় পর্যায়)(২০১৫-২০২০), ৩) জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (জুলাই ২০১৩-জুন ২০১৮), ৪) তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এপ্রিল ২০১৭- মার্চ ২০২২ পর্যন্ত। এ সকল প্রকল্পের মাধ্যমে শহর অঞ্চলের দরিদ্র, বেকার, অসহায়, বিত্তহীন মহিলাদের সেলাই ও এমব্রয়ডারী, ব্লক-বাটিক এন্ড স্ক্রীন প্রিন্ট, নকশী কাঁথা ও কাটিং, পোল্ট্রি উন্নয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরন ও সংরক্ষণ, চামড়াজাত দ্রব্য তৈরী, সাবান ও মোমবাতি তৈরী, বাইন্ডিং ও প্যাকেজিং, মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, হাউস কিপিং কম্পিউটার, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, বিউটিফিকেশন, ক্যাটারিং ট্রেডে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্ণিত প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে ১৬১৫০০ মহিলাকে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।